বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য শুভেচ্ছা বিনিময় এবং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তানসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) এআরএফের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্যে ড. খলিলুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এআরএফভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়; পরিকল্পিতভাবেই তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার সমাধানও হতে হবে রাজনৈতিক।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের আসন্ন সভাপতি হিসেবে নিজের দায়িত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল সংকটগুলোর সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব। পাশাপাশি সামুদ্রিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং ঝুঁকির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতা বিবেচনায় একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি সুশাসন কাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
সম্মেলনের ফাঁকে ড. খলিলুর রহমান সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট নেতারা তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে এআরএফ সম্মেলনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না হলেও চলমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের এই সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, বাণিজ্য, সংযোগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে ধারাবাহিক সংলাপের প্রেক্ষাপটে এই সৌজন্য বিনিময় ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
এর আগে বুধবার ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্মেলনের সাইডলাইনে বিভিন্ন অংশীদার দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ম্যানিলায় এআরএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিকে যেমন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন সুযোগও সৃষ্টি করতে চায়।
Posted ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh